উচ্চ-মাধ্যমিক ২০২৪ ইতিহাস সাজেশন দিয়ে দিলাম। আশা করছি এই সাজেশনটি ওদের ভীষণভাবে সাহায্য করবে। কোনোখানেই চার-পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে সারাবছর টিউশনি পড়ার দরকার নেই, আমি নিশ্চিত, আমার সাজেশন অনুযায়ী বাড়িতে বসে টেক্সটবই কিংবা নোটবই থেকে উত্তরগুলো বের করে পড়লেই একশো শতাংশ কমন পাওয়া যাবে।
ইতিহাস
Sunday, April 16, 2023
ইতিহাসের এই ৩০ টা প্রশ্ন আগামী ২০২৪-এর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ৮ নম্বরের প্রশ্ন কমন পাবার জন্য অবশ্যই পড়তে হবে।
প্রশ্ন ঃ ভারতে বামপন্থী ভাবধারা ও আন্দোলনের প্রসারে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের অবদান সম্পর্কে আলোচনা কর।
উত্তর ঃ মানবেন্দ্রনাথ রায় ছিলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পূর্বাবধি সমাজতন্ত্রীদের নেতা। তাঁর আসল নাম হল নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য । বিপ্লবী প্রয়াস সাধনে তিনি অসংখ্য ছদ্মনাম গ্রহণ করেন, যেমন— মি. মার্টিন, হরি সিং, ডা. মাহমুদ, মি. হোয়াইট, মি. ব্যানার্জী ইত্যাদি । তবে এম. এন. রায় নামেই তিনি সমধিক পরিচিতি । ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে ভারতে বামপন্থী ভাবধারা জনপ্রিয় হতে থাকলে তিনি ভারতে বামপন্থী ভাবধারা ও আন্দোলনের প্রসারে সর্বাধিক অগ্রগণ্য ভূমিকা নেন। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ভারতের উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলন এক অন্য রূপ ধারণ করে।
বিপ্লবী আন্দোলনে অংশগ্রহণ- বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে পড়াকালীনই তিনি অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । পরে তিনি যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় 'বাঘাযতীন' -এর সংস্পর্শে আসেন । প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে বাঘাযতীনের নির্দেশে তিনি জার্মান অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়ার বাটাভিয়ায় চলে যান । কিন্তু বাঘাযতীনের এই অস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা সফল হয়নি । পরবর্তীকালে আমেরিকা হয়ে তিনি মেক্সিকোতে পৌছান। মেক্সিকোতে থাকাকালীন সোশ্যালিস্ট পার্টির সংস্পর্শে এলে তিনি মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন । এখানে বিশিষ্ট রুশ বিপ্লবী ও কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের প্রতিনিধি বলশেভিক নেতা মিখাইল বোরোদিনের সঙ্গে তিনি পরিচত হন ও মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। বোরোদিন ও তাঁর মিলিত উদ্যোগে রাশিয়ার বাইরে মেক্সিকোতে তাঁর সভাপতিত্বে প্রথম কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় । এসময় থেকেই তিনি মানবেন্দ্রনাথ রায় নামে পরিচত হন।
কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা:- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে জুলাই থেকে ৭ই আগস্ট রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের (কমিন্টার্ন) দ্বিতীয় অধিবেশনে লেলিনের আমন্ত্রণে মেক্সিকো কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে মানবেন্দ্রনাথ যোগদান করেন । ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই অক্টোবর মানবেন্দ্রনাথ রায় অবনী মুখার্জী ও ২৪ জন মুহাজিরিনকে নিয়ে রাশিয়ার তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন । যা পরের বছরই কমিনটার্ন- এর স্বীকৃতি লাভ করে।
পত্রিকা প্রকাশ:- মানবেন্দ্রনাথ ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে বার্লিন থেকে “ভ্যানগার্ড অব ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্স” নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করে তা ডাকযোগে ভারতের নানা অঞ্চলে পাঠাতে থাকেন। পত্রিকাটির নাম কয়েকবার পরিবর্তন করলেও ব্রিটিশ সরকার বারবার পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করে।
ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনে ভূমিকা:- ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্ম প্রকাশের পূর্বেই কিছু বিপ্লবী নিজ প্রচেষ্টায় কমিউনিস্ট গোষ্ঠী গঠনের চেষ্টা করলে এম. এন রায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নলিনী গুপ্ত ও শওকত উসমানীকে ভারতে পাঠান। রাশিয়া থেকে মানবেন্দ্রনাথ রায় বিভিন্ন পুস্তিকা, অর্থ ও দূত পাঠিয়ে ভারতে কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রসার ঘটানোর প্রয়াস চালান । মানবেন্দ্রনাথ রায়ের নির্দেশে নলিনী গুপ্ত, মহম্মদ শরিফ, ফিরোজ উদ্দিন মনসুর, আব্দুল মজিদ, রফিক আহমেদ ও শওকত ওসমানিসহ প্রাক্তন মুহাজিরিনদের একটি দল ভারতে ফিরে কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রচার চালায় । তাঁর প্রেরণায় মুজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে কলকাতায় এবং এস এ ডাঙ্গের নেতৃত্বে পশ্চিম ভারতে কমিউনিস্ট আদর্শ প্রচারিত হয়। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের উদ্যোগেই ভারতের নানা প্রান্তে সাম্যবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষজনের সহযোগিতায় কমিউনিস্ট পার্টির শাখা গড়ে ওঠে যার চূড়ান্ত পরিণতি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কানপুরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা। এখানে প্রথম সর্বভারতীয় কমিউনিস্ট সম্মেলন হয় এবং এখানেই সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়ারের সভাপতিত্বে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
কমিউনিস্ট আন্দোলনে পরিচালনায় রণকৌশল:- মানবেন্দ্রনাথ রায় চেয়েছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় আন্দোলনে অংশ নেবে, কংগ্রেসের মধ্যে থেকে বিরোধিতা করবে এবং ভবিষ্যতে কংগ্রেসের বিকল্প হয়ে উঠবে এবং কমিউনিস্ট দল গোপনে কৃষক ও শ্রমিকদের সংগঠিত করে বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে । এই কারনে, ভারতে কমিউনিস্ট দলকে শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি দ্বিস্তর আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন —
১. জাতীয় আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে আইনগত ও বৈধভাবে আন্দোলন করা।
২. গোপনে শ্রমিক-কৃষক সংগঠন দ্বারা দলের নিজস্ব ভিত্তি শক্ত করা।
মানবেন্দ্রনাথ রায় চাইতেন ভারতের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা । অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত যদি স্বাধীন হয়, তবেই ভারত প্রকৃত স্বাধীনতা পাবে, এই ছিল তার উপলদ্ধি ।
কংগ্রেসে যোগদান :- নানা অভিযোগে মানবেন্দ্রনাথ রায়কে ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল থেকে বহিস্কার করা হয় । এরপর মানবেন্দ্রনাথকে ১৯৩০
খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার গ্রেফতার করে। ৬ বছর কারাবাসের পর তিনি মুক্তিলাভ করেন।
মুক্তিলাভের পর কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারার প্রসার ঘটানোর জন্য তিনি কংগ্রেসে
যোগ দেন এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে “লিগ অব র্যাডিক্যাল কংগ্রেসমেন” প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি কংগ্রেসে সুভাষচন্দ্র বসুকে সভাপতি পদে সমর্থন জানান।
পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কংগ্রেসের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন । তাই শেষে তাঁর চিন্তাভাবনার স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারা প্রসারের বিশেষ সম্ভাবনা না থাকায় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তিনি ''র্যাডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর লেখা বই :- মানবেন্দ্রনাথ বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি স্পানিস, জার্মান ও ফরাসি সহ ১৭টি ভাষা জানতেন। তাঁর রচিত ৬৭টি গ্রন্থ ও ৩৯টি পুস্তিকার কথা জানা যায়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিউ হিউম্যানিজম, মাই মেমোয়ার্স, ইন্ডিয়া ইন ট্রানজিশন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবক্ষয় ও পতন, ইসলামের ঐতিহাসিক ভূমিকা, বিজ্ঞান ও কুসংস্কার, নব মানবতাবাদ, রেভলিউশন এন্ড কাউন্টার, রেভলিউশন ইন চায়না, রিজন রোমান্টিসিজম এন্ড রেভলিউশন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
উপসংহার :- আমৃত্যু বামপন্থী ভাবধারা ও আন্দোলনের প্রসারে নিরলস লড়াই চালিয়ে এই কমিউনিস্ট নেতা ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দেরাদুনে পরলোক গমন করেন। অমৃতবাজার পত্রিকা তাঁকে “সারা বিশ্বে বিচরণকারী নিঃসঙ্গ সিংহ” বলে অভিহিত করেছে।
Friday, June 4, 2021
Higher
Secondary - History
প্রশ্ন:- জালিয়ানওয়ালাবাগ
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট এবং প্রতিক্রিয়া আলোচনা কর।
অমৃতসর শিখ সম্প্রদায়ের একটি পবিত্র শহর। এই শহরেই শিখদের
পবিত্র স্বর্ণ মন্দির। ১৯১৯ সালে এই শহরে ভারতীয়
স্বাধীনতাকামীদের সাথে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিলো। রাওলাট আইনের প্রতিবাদে গান্ধীজীর আহবানে সাড়া দিয়ে সমগ্র
দেশ জুড়ে শুরু হয় সত্যাগ্রহ আন্দোলন। এপ্রিলের ১৩
তারিখে শহরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ার
খবর পেলেন অমৃতসর শহরের জালিয়ানওয়ালাবাগ নামক উদ্যানে বিক্ষোভের জন্য মানুষজন
জড় হচ্ছে। সাথে সাথেই তিনি একদল সৈন্য নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ বাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিলে সরকারি
মতে ৩৭৯ জন নিহত ও ১২০০ জন আহত হন।
যদিও বেসরকারি মতে এই সংখ্যাটা অনেক বেশি। বর্বর ব্রিটিশ পুলিশের এই নারকীয়
হত্যাকাণ্ড জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত।
প্রেক্ষাপট:- এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট নীচে আলোচনা করা হল।
1. ব্রিটিশ
সরকারের তীব্র অত্যাচার:- অত্যাচারী বৃটিশ সরকারের বিভিন্ন দমনমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে ব্রিটিশ
বিরোধী গণআন্দোলন ক্রমশ তীব্র হতে থাকে। পাঞ্জাবের মুখ্য প্রশাসক লেফটেন্যান্ট
গভর্নর মাইকেল ডায়ারের অত্যাচারী শাসন
পাঞ্জাবকে বারুদের স্তূপে পরিণত করে। তিনি জুলুম চালিয়ে যুদ্ধের জন্য পাঞ্জাব থেকে সেনা ও অর্থ
সংগ্রহ এবং বিদ্রোহ বিপ্লব প্রতিরোধ করতে পাঞ্জাবীদের ওপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছিলেন।
এইসব ঘটনা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করে তোলে।
2. কুখ্যাত
রাওলাট আইন প্রণয়ন:- সরকার ভারতীয়দের যাবতীয় স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে
নেওয়ার উদ্দেশ্যে কুখ্যাত নিষ্ঠুর দমনমূলক ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে
রাওলাট আইন প্রবর্তন করলে দেশবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং এই বিক্ষোভের আঁচ পাঞ্জাবে
সবথেকে গভীর এবং অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
3. বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের
গ্রেপ্তার:- এই সময় সরকার ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ১০ এপ্রিল অমৃতসরের স্থানীয় দুই নেতা সইফুদ্দিন কিচলু ও সত্য
পালকে হিংসায় মদত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করলে জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে
গান্ধীজিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে লাহোরে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হয়। মারমুখী
জনতা বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালত, টেলিগ্রাফ লাই্ন, ইউরোপীয় নারী-পুরুষের ওপর
আক্রমণ চালায়।
4. সামরিক শাসন
জারি:- অমৃতসরে আন্দোলন
প্রবল হয়ে উঠলে জেনারেল মাইকেল ও' ডায়ারের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর হাতে পাঞ্জাবের শাসনভার
তুলে দেওয়া হয়। সামরিক আইন জারি করে ১১ ই এপ্রিল
শহরে জনসভা ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রতিক্রিয়া:-
এই ভয়ানক ও মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় ব্রিটিশ শাসনের প্রকৃত নগ্ন রূপটি প্রকাশ হয়ে পড়ে । সরকার জালিয়ানওয়ালাবাগের সভায় গুলি চালানোর ঘটনাকে সমর্থন করে। ভারত-সচিব মন্টেগু এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে 'নিবারণমূলক হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেন। তবে ভারতীয়রা এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এবং সারা দেশে বিদেশে সর্বত্রই এই নগ্ন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
1. এই
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজদের দেওয়ার 'নাইট' উপাধি
ঘৃণাভরে ত্যাগ করেন এবং বলেন "পাঞ্জাবের দুঃখের তাপ আমার বুকের পাঁজর
পুড়িয়ে দিলে।"
2. রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন
"জালিয়ানওয়ালাবাগ সমগ্র ভারতে এক মহাযুদ্ধের আগুন জ্বেলে দেয়।"
3. মহাত্মা গান্ধিজিও ব্রিটিশদের দেওয়া 'কাইজার-ই-হিন্দ' উপাধি ত্যাগ
করেন। একসময় ব্রিটিশ শাসনকে 'ঈশ্বরের আশীর্বাদ' মনে করা
গান্ধিজি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদস্বরূপ তার ইয়ং ইন্ডিয়া পত্রিকায় লেখেন
যে, "এই শয়তান সরকারের সংশোধন অসম্ভব, একে অবশ্যই
ধ্বংস করতে হবে।"
4. জাতীয় কংগ্রেস জালিয়ানওয়ালা-বাগের হত্যাকাণ্ডের তীব্র
নিন্দা করে। কংগ্রেস নেতা সি.এফ. এন্ড্রুজ এই ঘটনাকে 'কসাইখানার
গণহত্যার’ (It was a massacre, a butchery) সমতুল্য বলে নিন্দা করেছেন। ব্রিটিশ
সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে কংগ্রেস নিজের উদ্যোগে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি তদন্ত
কমিটি গঠন করে। এই কমিটি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ২৫ মার্চ তার রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের
জন্য ডায়ারকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে শাস্তিদানের সুপারিশ করে।
5. ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল বলেন
"জালিয়ানওয়ালাবাগের মত মর্মান্তিক ঘটনা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে আর কখনো ঘটেছে
বলে আমার মনে হয় না।"
6. এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সমগ্র দেশের মানুষ ব্রিটিশদের
বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
7. এই হত্যাকাণ্ড ভারতবাসীকে এক তীব্র ইংরেজ বিরোধীতে পরিণত
করেছিলো যার পরিণতিতে ঘটেছিল অসহযোগ আন্দোলনে।
8. অবশ্য এত প্রতিবাদ ও সমালোচনা সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার
ভারতীয়দের কথায় কোন প্রকার কর্ণপাত করেনি।
মূল্যায়ন:-
পরিশেষে বলা যায়
ব্রিটিশ সরকার কর্ণপাত না করলেও শেষ পর্যন্ত উধম সিং নামে এক ভারতীয় ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে
জেনারেল ও ডায়ারকে হত্যা করে জালিয়ান ওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ
নিয়েছিলেন। জালিয়ানওয়ালাবাগের
ঐ গণহত্যা ভারতের জাতীয়তাবাদকে আরো কঠোর করে তুলেছিল। গান্ধি
লিখেছিলেন আমরা ডায়ারের শাস্তি চাইনা, যে ব্যবস্থা
ডায়ারের মত মানুষ তৈরি করে, আমরা তার
পরিবর্তন চাই।