Sunday, April 16, 2023

উচ্চ-মাধ্যমিক ২০২৪ ইতিহাস সাজেশন দিয়ে দিলাম। আশা করছি এই সাজেশনটি ওদের ভীষণভাবে সাহায্য করবে। কোনোখানেই চার-পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে সারাবছর টিউশনি পড়ার দরকার নেই, আমি নিশ্চিত, আমার সাজেশন অনুযায়ী বাড়িতে বসে টেক্সটবই কিংবা নোটবই থেকে উত্তরগুলো বের করে পড়লেই একশো শতাংশ কমন পাওয়া যাবে।

১। আধুনিক ইতিহাস লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা কর।
২। জাদুঘর বলতে কী বোঝ? অতীত পুনর্গঠনে জাদুঘরের ভূমিকা আলোচনা করো।
৩। লোককথা বলতে কী বোঝ? লোককথার বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলোচনা কর।
৪। ইতিহাস রচনায় স্মৃতিকথার গুরুত্ব কী?
৫। দেশীয় ইতিহাস চর্চা বিষয়ে যা জান লেখ।
৬। উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে হবসন লেনিনের তত্ত্ব আলোচনা কর।
৭। সাম্রাজ্যবাদ বলতে কী বোঝ? সাম্রাজ্যবাদ প্রসারের নানা কারণ লেখ।
৮। উপনিবেশবাদের সাথে সাম্রাজ্যবাদের সম্পর্ক লেখ।
৯। ঔপনিবেশিক সমাজে জাতি সংক্রান্ত প্রশ্ন ও তার প্রভাব আলোচনা কর।
১০। নয়া উপনিবেশবাদ কী ? নয়া-উপনিবেশবাদের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ্।
১১। মার্কেন্টাইল মূলধন বলতে কী বোঝ? এই অর্থনীতির অবসান কীভাবে হয়েছিল?
১২। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রধান শর্তগুলি লেখো। ভারতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী ছিল?
১৩। অবশিল্পায়ন বলতে কী বোঝ? অবশিল্পায়নের কারণ, ফলাফল ও গুরুত্ব লেখ।
১৪। ভারতে কে প্রথম রেলপথ স্থাপন করেন? রেলপথ স্থাপনের উদ্দেশ্য বা কারণগুলি কী ছিল? ভারতের অর্থনীতিতে রেলপথ স্থাপনের সুফল ও কু প্রভাবগুলি আলোচনা কর।
১৫। অসম চুক্তি বলতে কী বোঝ? চীনের উপর আরোপিত নানা চুক্তিগুলির পরিচয় দাও। চুক্তিগুলির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
১৬। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের বিবরণ দাও।
১৭। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতের বিভিন্ন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার পরিচয় দাও।
১৮। সিরাজদৌল্লার সাথে ইংরেজদের বিবাদের কারণগুলি কী ছিল?
১৯। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে কী জান?
২০। ইঙ্গ-মহীশূর সম্পর্কের বিবরণ দাও।
২১। ১৭৭৩ খ্রিষ্টাব্দের রেগুলেটিং এক্টের বিভিন্ন শর্তাবলী উল্লেখ করো। এই আইনের মূল্যায়ণ কর।
২২। স্বামী বিবেকানন্দের সমাজ চেতনা সম্পর্কে আলোচনা কর।
২৩। আলিগর আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
২৪। ব্রিটিশ শাসনকালে আদিবাসী ও দলিতদের পরিচয় দাও।
২৫। বাংলার নবজাগরণের প্রকৃতি লেখ। এর সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা কর।
২৬। ঔপনিবেশিক শাসনে ভারতে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর উদ্ভবের কারণ কী? মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য লেখ।
২৭। পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে চীনে বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায়ের উদ্ভব কীভাবে হয়? তাইপিং বিদ্রোহ সম্পর্কে টীকা লেখ।
২৮। বিংশ শতকে চীনে ফোর্থ মে আন্দোলনের উত্থান ও গুরুত্ব লেখ।
২৯। ডিরোজিওর নেতৃত্বাধীন নব্যবঙ্গ আন্দোলনের বিবরণ দাও। এই আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ কী?
৩০। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দের করলে মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলোচনা কর।
৩১। রাওলাট আইনের উদ্দেশ্য কী ছিল? গান্ধীজি কেন এর বিরোধিতা করেছিলেন?
৩২। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারত শাসন আইনের প্রেক্ষাপট ও শর্ত লেখ। এই আইনের গুরুত্ব কী ছিল?
৩৩। লখনউ চুক্তির শর্ত ও গুরুত্ব লেখ।
৩৪। পঞ্চাশের মন্বন্তরের কারণ কী ছিল? এই মন্বন্তরের মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা এবং অর্থনীতি ও শিল্প-সাহিত্যে এর কী ভূমিকা ছিল?
৩৫। ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শিল্পের অগ্রগতির কারণ কী ছিল?
৩৬। ক্রিপস মিশনের প্রস্তাবগুলি কী ছিল? ভারতীয়রা কেন এগুলিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল?
৩৭। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের নৌবিদ্রোহের কারণ ও তাৎপর্য কী ছিল?
৩৮। কোন পটভূমিকায় মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা রচিত হয়েছিল? এর মূল বিষয় কী ছিল? এর প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?
৩৯। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের তাৎপর্য লেখ। এই আন্দোলনে মহিলাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে যা জান লেখ।
৪০। কোরিয়া যুদ্ধের ফলাফল ও তাৎপর্য লেখ।
৪১। হো-চি- মিনের নেতৃত্বে ভিয়েতনাম মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
৪২। কিউবার ক্ষেপনাস্ত্র সংকটের পরিচয় দাও।
৪৩। ট্রুম্যান নীতি ও মার্শাল পরিকল্পনা সম্পর্কে লেখ।
৪৪। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মূল্যায়ণ কর। অর্থাৎ এর সূচনা ও বিকাশে জওহরলাল নেহরুর ভূমিকা লেখ
৪৫। ঠান্ডা লড়াই কাকে বলে? কোন ভিত্তিতে এই লড়াইয়ের উদ্ভব হয় বা এই লড়াইয়ের পটভূমি ও বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যা কর
৪৬। প্যালেস্টাইন সমস্যার কারণগুলি কী? আরব-ইজরায়েল যুদ্ধগুলি সম্পর্কে আলোচনা কর।
৪৭। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের উত্থানের প্রেক্ষাপট আলোচনা কর।
৪৮। তেল কূটনীতি বলতে কী বোঝায়? তেল কূটনীতি প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের জন্য কতটা দায়ী ছিল?
৪৯। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে কোরীয় সংকটের পরিচয় দাও। কোরীয় যুদ্ধের কারণ ও অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা কর।
৫০। সার্ক কীভাবে গঠিত হয়েছিল? এর উদ্দেশ্য কী ছিল? এর সাফল্য ব্যাখ্যা কর।
৫১। অব-উপনিবেশীকরণ কাকে বলে? এর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তাৎপর্য লেখ।
৫২। স্বাধীন ভারতের প্রথম ৩টি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার নানা লক্ষ্য ও গুরুত্ব লেখ।
৫৩। ক্যান্টন বাণিজ্যের মুখ্য বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল? এই বাণিজ্যের অবসান কিভাবে হয়েছিল?
৫৪। আলজেরিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রসার সম্পর্কে আলোচনা কর।
৫৫। জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপট কী ছিল? এই ঘটনার গুরুত্ব কী ছিল?
৫৬। কোন পরিস্থিতিতে মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়েছিল? এর ফলাফল কী হয়েছিল?

 ইতিহাসের এই ৩০ টা প্রশ্ন আগামী ২০২৪-এর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ৮ নম্বরের প্রশ্ন কমন পাবার জন্য অবশ্যই পড়তে হবে।

১। "হিন্দু প্যাট্রিয়ট" পত্রিকা সম্পর্কে একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ লেখো।
২। বাংলায় ইংরেজি শিক্ষার প্রসার সম্পর্কে আলোচনা করো।
৩। শিক্ষাবিস্তারে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী? উচ্চ শিক্ষা বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো।
৪। বাংলায় নারী শিক্ষার প্রসার সম্পর্কে আলোচনা করো।
৫। বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। তিনি কতটা সাফল্য অর্জন করেছিলেন?
৬। ঊনবিংশ শতাব্দীর সমাজসংস্কার ও শিক্ষাবিস্তারে বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।
৭। নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল কাদের বলা হয়? ঊনিশ শতকে বাংলার ইতিহাসে নব্যবঙ্গদের অবদান আলোচনা করো।
৮। চুয়ার বিদ্রোহের কারণ ও প্রসার সম্পর্কে আলোচনা করো।
৯। সাঁওতাল বিদ্রোহের ফলাফল আলোচনা করো।
১০। ঔপনিবেশিক অরণ্য আইন প্রবর্তনে ব্রিটিশ সরকারের উদ্দেশ্য কী ছিল? এই আইন প্রবর্তনের ফলে আদিবাসীদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
১১। ঔপনিবেশিক ভারতে আদিবাসী ও কৃষক বিদ্রোহগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
১২। নীল বিদ্রোহ বলতে কী বোঝ? ঊনিশ শতকে বাংলায় নীল বিদ্রোহের প্রধান কারণ, প্রসার ও ফলাফল বা গুরুত্ব আলোচনা করো।
১৩। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করো। একে কি ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ বলা যায়? তোমার মতামতের সমর্থনে যুক্তি দেখাও।
১৪। আনন্দমঠ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে কীভাবে জাতীয়তাবাদের রূপ পরিস্ফুট হয়েছে?
১৫। জাতীয়তাবোধের বিকাশে স্বামী বিবেকানন্দের অবদান আলোচনা করো।
১৬। ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলায় বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করো।
১৭। জগদীশচন্দ্র বসুর বিজ্ঞান গবেষণা উল্লেখ করে "বসু বিজ্ঞান মন্দির" প্রতিষ্ঠা ব্যাখ্যা করো।
১৮। জাতীয় শিক্ষা পরিষদ সম্পর্কে আলোচনা করো।
১৯। বিশ শতকের ভারতে কৃষক আন্দোলনের / শ্রমিক আন্দোলনের বর্ণনা দাও।
২০। আইন অমান্য / অসহযোগ / ভারতছাড়ো আন্দোলনের সময়কালে শ্রমিক আন্দোলনের বিবরণ দাও।
২১। ভারতছাড়ো আন্দোলনের কারণ ও গুরুত্ব লেখো।
২২। ভারতের বামপন্থী ভাবধারা ও আন্দোলনের প্রসারে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো।
২৩। বিংশ শতকের ভারতে উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনে বামপন্থীদের ভূমিকা আলোচনা করো।
২৪। কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারার অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করো।
২৫। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারীসমাজ কীভাবে অংশগ্রহণ করেছিল? তাদের আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা কী?
২৬। বিংশ শতকে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা আলোচনা করো।
২৭। বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের বিবরণ দাও।
২৮। মাস্টারদা সূর্যসেনের বিপ্লবী জীবন সম্পর্কে আলোচনা করো।
২৯। দলিত আন্দোলন বলতে কী বোঝ? দলিত আন্দোলনে ডাঃ আম্বেদকরের ভূমিকা কী ছিল?
৩০। ঔপনিবেশিক শাসনকালে বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলনের পরিচয় দাও।

 

প্রশ্ন ভারতে বামপন্থী ভাবধারা ও আন্দোলনের প্রসারে মানবেন্দ্রনাথ রায়ের অবদান সম্পর্কে আলোচনা কর। 

উত্তর ঃ মানবেন্দ্রনাথ রায় ছিলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পূর্বাবধি সমাজতন্ত্রীদের নেতা তাঁর আসল নাম হল নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য । বিপ্লবী প্রয়াস সাধনে তিনি অসংখ্য ছদ্মনাম গ্রহণ করেন, যেমনমি. মার্টিন, হরি সিং, ডা. মাহমুদ, মি. হোয়াইট, মি. ব্যানার্জী ইত্যাদি । তবে এম. এন. রায় নামেই তিনি সমধিক পরিচিতি । ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে ভারতে বামপন্থী ভাবধারা জনপ্রিয় হতে থাকলে তিনি ভারতে বামপন্থী ভাবধারা ও আন্দোলনের প্রসারে সর্বাধিক অগ্রগণ্য ভূমিকা নেন। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ভারতের উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলন এক অন্য রূপ ধারণ করে।  

বিপ্লবী আন্দোলনে অংশগ্রহণ- বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে পড়াকালীনই তিনি অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । পরে তিনি যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় 'বাঘাযতীন' -এর সংস্পর্শে আসেন । প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে বাঘাযতীনের নির্দেশে তিনি জার্মান অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়ার বাটাভিয়ায় চলে যান । কিন্তু বাঘাযতীনের এই অস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা সফল হয়নি । পরবর্তীকালে আমেরিকা হয়ে তিনি মেক্সিকোতে পৌছান। মেক্সিকোতে থাকাকালীন সোশ্যালিস্ট পার্টির সংস্পর্শে এলে তিনি মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন । এখানে বিশিষ্ট রুশ বিপ্লবী ও কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের প্রতিনিধি বলশেভিক নেতা মিখাইল বোরোদিনের সঙ্গে তিনি পরিচত হন ও মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। বোরোদিন ও তাঁর মিলিত উদ্যোগে রাশিয়ার বাইরে মেক্সিকোতে তাঁর সভাপতিত্বে প্রথম কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় । এসময় থেকেই তিনি মানবেন্দ্রনাথ রায় নামে পরিচত হন।   

কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা:- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে জুলাই থেকে ৭ই আগস্ট রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের (কমিন্টার্ন) দ্বিতীয় অধিবেশনে লেলিনের আমন্ত্রণে মেক্সিকো কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে মানবেন্দ্রনাথ যোগদান করেন । ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই অক্টোবর মানবেন্দ্রনাথ রায় অবনী মুখার্জী ও ২৪ জন মুহাজিরিনকে নিয়ে রাশিয়ার তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন । যা পরের বছরই কমিনটার্ন- এর স্বীকৃতি লাভ করে।

পত্রিকা প্রকাশ:- মানবেন্দ্রনাথ ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে বার্লিন থেকে “ভ্যানগার্ড অব ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্স” নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করে তা ডাকযোগে ভারতের নানা অঞ্চলে পাঠাতে থাকেন। পত্রিকাটির নাম কয়েকবার পরিবর্তন করলেও ব্রিটিশ সরকার বারবার পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করে।

ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলনে ভূমিকা:- ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্ম প্রকাশের পূর্বেই কিছু বিপ্লবী নিজ প্রচেষ্টায় কমিউনিস্ট  গোষ্ঠী গঠনের চেষ্টা করলে এম. এন রায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নলিনী গুপ্ত ও শওকত উসমানীকে ভারতে পাঠান।  রাশিয়া থেকে মানবেন্দ্রনাথ রায় বিভিন্ন পুস্তিকা, অর্থ ও দূত পাঠিয়ে ভারতে কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রসার ঘটানোর প্রয়াস চালান । মানবেন্দ্রনাথ রায়ের নির্দেশে নলিনী গুপ্ত, মহম্মদ শরিফ, ফিরোজ উদ্দিন মনসুর, আব্দুল মজিদ, রফিক আহমেদ ও শওকত ওসমানিসহ প্রাক্তন মুহাজিরিনদের একটি দল ভারতে ফিরে কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রচার চালায় । তাঁর প্রেরণায় মুজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে কলকাতায় এবং এস এ ডাঙ্গের নেতৃত্বে পশ্চিম ভারতে কমিউনিস্ট আদর্শ প্রচারিত হয়। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের উদ্যোগেই ভারতের নানা প্রান্তে সাম্যবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষজনের সহযোগিতায় কমিউনিস্ট পার্টির শাখা গড়ে ওঠে যার চূড়ান্ত পরিণতি ১৯২৫  খ্রিস্টাব্দে কানপুরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা। এখানে প্রথম সর্বভারতীয় কমিউনিস্ট সম্মেলন হয় এবং এখানেই সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়ারের সভাপতিত্বে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

কমিউনিস্ট আন্দোলনে পরিচালনায় রণকৌশল:- মানবেন্দ্রনাথ রায় চেয়েছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় আন্দোলনে অংশ নেবে, কংগ্রেসের মধ্যে থেকে বিরোধিতা করবে এবং ভবিষ্যতে কংগ্রেসের বিকল্প হয়ে উঠবে এবং কমিউনিস্ট দল গোপনে কৃষক শ্রমিকদের সংগঠিত করে বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে এই কারনে,  ভারতে কমিউনিস্ট দলকে শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি দ্বিস্তর আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন

. জাতীয় আন্দোলনে যোগদানের মাধ্যমে আইনগত ও বৈধভাবে আন্দোলন করা।

. গোপনে শ্রমিক-কৃষক সংগঠন দ্বারা দলের নিজস্ব ভিত্তি শক্ত করা।

মানবেন্দ্রনাথ রায় চাইতেন ভারতের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত যদি স্বাধীন হয়, তবেই ভারত প্রকৃত স্বাধীনতা পাবে, এই ছিল তার উপলদ্ধি  

কংগ্রেসে যোগদান :- নানা অভিযোগে মানবেন্দ্রনাথ রায়কে ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি    কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল থেকে বহিস্কার করা হয় এরপর মানবেন্দ্রনাথকে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার গ্রেফতার করে। ৬ বছর কারাবাসের পর তিনি মুক্তিলাভ করেন। মুক্তিলাভের পর কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারার প্রসার ঘটানোর জন্য তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে “লিগ অব র‍্যাডিক্যাল কংগ্রেসমেন” প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কংগ্রেসে সুভাষচন্দ্র বসুকে সভাপতি পদে সমর্থন জানান।  

পরবর্তীকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কংগ্রেসের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তাই শেষে  তাঁর চিন্তাভাবনার স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে এবং কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বামপন্থী ভাবধারা প্রসারের বিশেষ সম্ভাবনা না থাকায় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে  তিনি ''র‍্যাডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেন

তাঁর লেখা বই :- মানবেন্দ্রনাথ বাংলা ইংরেজির পাশাপাশি স্পানিসজার্মান  ফরাসি সহ ১৭টি ভাষা জানতেন তাঁর রচিত ৬৭টি গ্রন্থ ৩৯টি পুস্তিকার কথা জানা যায় এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিউ হিউম্যানিজম, মাই মেমোয়ার্স, ইন্ডিয়া ইন ট্রানজিশন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবক্ষয় ও পতন, ইসলামের ঐতিহাসিক ভূমিকা, বিজ্ঞান ও কুসংস্কার, নব মানবতাবাদ, রেভলিউশন এন্ড কাউন্টার, রেভলিউশন ইন চায়না, রিজন রোমান্টিসিজম এন্ড রেভলিউশন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য   

উপসংহার :- আমৃত্যু বামপন্থী ভাবধারা ও আন্দোলনের প্রসারে নিরলস লড়াই চালিয়ে এই কমিউনিস্ট নেতা ১৯৫৪  খ্রিস্টাব্দের ২৫  জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দেরাদুনে পরলোক গমন করেন। অমৃতবাজার পত্রিকা তাঁকে “সারা বিশ্বে বিচরণকারী নিঃসঙ্গ সিংহ” বলে অভিহিত করেছে।